সকাল ৮:১৮, বৃহস্পতিবার, ২৩শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ Special Post / এবারও হলো না
এবারও হলো না
মার্চ ৭, ২০১৬

এম এস সাহাব : এবারও হলো না। উৎসবের রাতের বদলে চার দিকে নেমে এলো গভীর অন্ধকার। দ্বিতীয়বাবের মত ফাইনালে উঠেও এশিয়া কাপের শিরোপা অধরাই থাকল বাংলাদেশের। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে ২ মাত্র রানে হেরেছিল টাইগাররা। সেই হারের পর কান্নায় ডুবেছিল মুশফিক-সাকিবদের সাথে গোটা বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবালো ভারত। গতকাল টি-টোয়েন্টি ফরমেটে অনুষ্ঠিত প্রথম এশিয়া কাপের ফাইনালে ধোনিরা ৮ উইকেটে হারিয়েছে মাশরাফিবাহিনীকে। তখনো ম্যাচের বাকি ৭ বল। ১৪তম ওভারের ৫ বলেই ২০ রান তুলে নিয়ে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ সিং ধোনি ও বিরাট কোহলি। ধোনি আল আমিনের করা এই ওভারে ২টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন। ভারত ১৩.৫ ওভারে ১২২ রান তুলে নেয়।
Virat Kohli,  Shikhar Dhawan
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘিœত ১৫ ওভারের ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ মাহমুদুল্লাহের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান তোলে। জবাব দিতে নেমে ভারত শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। বোলিংয়ের শুরুটা ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিজের তৃতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে (১) সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠান আল আমিন। মাত্র ৫ রানে উইকেটটি হারায় ভারত। ৪ ওভার পর্যন্ত ১৯ রান তোলা ভারত তখন বেশ চাপেই ছিল। কিন্তু নিজের প্রথম ওভারে বল করতে এসে আবু হায়দার রনি দিয়ে বসেন ১৪ রান। এরপর আর ভারতকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেখেশুনে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। তারা জুটিতে ৯৪ রান তুলে নেন। তাদের জুটিতেই ভারত জয় দেখছিল। ম্যাচ সেরা ধাওয়ান তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের হতাশায় নিমজ্জিত করেন। তিনি ৪০ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রান তুলে নিয়ে তাসকিনের বলে আউট হন। কোহলিও কম যাননি। ২৮ বলে ৫টি বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৪১ রান করেন। আর ধোনি ৬ বলে ২০ রানে ‘অজেয়’ থাকেন।

Al-Amin Hossain

Al-Amin Hossain


এর আগে সাব্বিরের প্রতিরোধের পর মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। বৃষ্টির জন্য ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শুরুর দিকে উইকেট পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত চার-ছয় মারতে না পারার ব্যর্থতায় স্বাগতিকদের একশ’ পেরোনোই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে বাংলাদেশের বোলারদের লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন দারুণ ফর্মে থাকা মাহমুদউল্লাহ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন সাব্বির রহমান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসটাকে ধরে রাখেন ২৯ বলে ৩২ রান করা এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান।
আশিস নেহরার পর পর দুই বল বাউন্ডারি পার করে তৃতীয় চার মারতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সৌম্য সরকার (৯ বলে ১৪)। পরের ওভারেই জাসপ্রিত বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (১৭ বলে ১৩)। দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে সাকিব আল হাসান আর সাব্বির রহমানের ৩৪ রানের জুটিতে। অশ্বিনের বলে স্লগ সুইপ করতে দিয়ে শর্ট লেগে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন সাকিব (১৬ বলে ২১)।
ব্যাটে বলে সংযোগ হচ্ছিল না মুশফিকুর রহিমের। বেশিণ উইেকটে থাকতেও পারেনি। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ড্রাইভ দিলেও ব্যাট উচিয়ে থাকায় ফিরতে হয় তাকে। জাদেজার পরের বলেই ডিপ মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরপর সাব্বির ও মাহমুদুল্লাহ দলকে লড়াইয়ের মত পুঁজি এনে দেন।
এর আগে বৃষ্টি থামার পর দ্রুতই খেলার উপযোগী হয়ে উঠে মিরপুরে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠ। ইনিংস প্রতি ৫ ওভার কাটার পর খেলা শুরু হয় রাত সাড়ে নয়টায়। ফাইনালে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সন্ধ্যার পরপরই মিরপুরে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। মাঠের বিভিন্ন অংশ পানি জমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হতে পারেনি। পৌনে আটটার দিকে বৃষ্টি পুরোপুরি থামে। ফাড লাইটেও আলো ফিরে। এরপর আম্পায়াররা রাত নয়টায় মাঠ পরিদর্শন করে ১৫ ওভারের ইনিংসের কথা জানান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :