দুপুর ১২:২৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / অবিশ্বাস্য হার!
অবিশ্বাস্য হার!
মার্চ ২৪, ২০১৬

এম এস সাহাব : এটাকে কি বলা যায়! তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া, নাকি নিজের তরী নিজে ডুবানো? মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদুল্লাহ যা করলেন তাকে তীরে এসে তরী ডুবানো বলাই শ্রেয়। তারাই ভারতের বিরুদ্ধে তাদের মাঠেই বাংলাদেশের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। শেষ তিন বলে ম্যাচ জিততে দরকার মাত্র ২ রান! আর টাই করতে প্রয়োজন ১। ক্রিজে ছিলেন দেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। যখন বেঙ্গালুরে টাইগারদের কর্তৃত্বে শত কোটি ভারতীয়দের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম, জয় যখন বাংলাদেশের সুনিশ্চিত, তখনই আত্মাহুতি দিলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। দু’জনই ডুবালেন দলকে। জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে হতাশায় নিমজ্জিত করলেন গোটা বাংলাদেশকে। ৩ বলে দুই রান! অথচ তারা খেলতে গেলেন বিগ হিট। মুশফিরের পর একই ভুল মাহমুদুল্লার। আর তাতেই সর্বনাশ। হারদিক পান্ডে পর পর দুই চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া মুশফিক আবার বল তুলে মারতে গিয়ে শেখর ধাওয়ানের কাছে ক্যাচ দিলেন। স্ট্রাইকে এলেন মাহমুদুল্লা। তিনিও সজোরে চালালেন বল। লং অনে বল তুলে দিলেন জাদেজার হাতে। আর তাতেই ম্যাচের গতি ঘুরে গেল। যে ম্যাচ জেতার কথা। তা হারে পরিণত হলো। শেষ বলেও এলো না রান। শুভগত ব্যাটে বল লাগাতেই পারেনি। বল সরাসরি চলে যায় ধোনির তালুতে। অবশ্য রান নেয়ার জন্য দৌড়েছিলেন তিনি ও মুস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজ ক্রিজে পৌঁছার আগে তাকে রান আউট করে দেন ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি। সাথে সাথে নেচে উঠলো গোটা ভারত। আর উল্লাসের বদলে কান্নায় ডুবলো রাত জাগা টাইগারভক্তরা।
অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় মাত্র ১ রানে হেরে যেতে হলো বাংলাদেশকে। ভারতের করা ১৪৬ রানের জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে থামলো বাংলাদেশের ইনিংস। এই হার অনেকদিন দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে মাশরাফিবাহিনীর। অথচ জয়ের কত কাছে চলে এসেছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে ১১ রান প্রয়োজন। মুশফিকুর রহিম পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে জয়টাকে একেবারে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু দুটি সিঙ্গেল না নিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হলেন মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহর মত সিনিয়র ব্যাটসমানরা। এই দুটি আউটই হারিয়ে দিলো বাংলাদেশকে। শেষ বলে প্রয়োজন দুই রান। কিন্তু শুভাগত হোম ব্যাটেই বল লাগাতে পারেননি।
বাংলাদেশ নিশ্চিত জয় পাচ্ছিল যে ম্যাচে, সেই ম্যাচটিতে টান টান উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল শেষ মুহূর্তে। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ১৭ রান। শেষ ওভারে ১১ রান। বোলার ছিলেন হার্দিক পাণ্ডে। শেষ এই ওভারে নায়কে পরিণত হলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বলে দিলেন ১ রান। দ্বিতীয় বলে মুশফিক মারলেন বাউন্ডারি। প্রতিটি বলের আগেই তৈরী হলো টান টান উত্তেজনা। ভারতীয় খেলোয়াড়রা বার বার পরামর্শ দিচ্ছিলেন পাণ্ডেকে। কিন্তু তৃতীয় বলে আবারও বাউন্ডারি মারলেন মুশফিক। তিন বলে প্রয়োজন ২ রান। কিন্তু চতুর্থ বলে এসে আবারও বাউন্ডারি মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন মুশফিক। ২ বলে প্রয়োজন ২ রান। ৫ম বলে ইজি বল ছক্কা মারতে গেলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু এবারও ক্যাচ। আউট হয়ে গেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। শুভাগত হোমের মত ব্যাটসম্যান ব্যাটেই বল লাগাতে পারলেন না। দৌড়েছিলেন রানের জন্য। তাও পারলেন না। রানআউট হয়ে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
একই সঙ্গে ভারতের কাছে হেরে সেমিতে যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো বাংলাদেশের। গ্রুপ-২ এ এখন ভারতের পয়েন্ট ৪। বাংলাদেশের কোন পয়েন্ট নেই। অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান ২ করে। টানা তিন ম্যাচ জিতে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছে নিউজিল্যান্ড।
১৪৭ রানের ল্েয খেলতে নেমে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। অবশ্য দু’বার লাইফ পেয়েছিলেন তিনি। একবার বোলারকে দিয়েছিলেন রিটার্ন ক্যাচ। আরেকবার জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবুও খুব বেশিদুর এগুতে পারলেন না বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। ৩৫ রান করে ফিরে যেতে হলো তাকে।
তবে আউট হওয়ার আগে দারুণা সূচনা এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ভারতের করা ১৪৬ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১১ রানের মাথায় মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়ে গেলে যে বিপর্যয় তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেটা আপাতত কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। ৩২ বলে খেলা তার ৩৫ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৫টি বাউন্ডারির মার।
তার আগে ৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন আলি। এরপর সাব্বির রহমান আর সাকিব আল হাসান মিলে দারুন একটি জুটি গড়ে তোলেন। যদিও দলের ৬৯ রানের মাথায় অমার্জনীয় এক ভুলে আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। ওয়াইড বলে সরতে গিয়ে ধোনির স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি।
সাকিব আল হাসানও সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন ১৫ বলে ২২ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু অশ্বিনের এক ঘুর্ণিতে স্লিপে রায়নার হাতে ক্যাচ দিলেন তিনি। মাশরাফি নেমেছিলেন ৫ নম্বরে। ইচ্ছা ছিল দ্রুত কিছু রান তোলা। কিন্তু ৫ বলে ৬ রান করে আউট হয়ে যান তিনিও। সৌম্য সরকারকে নামানো হয়েছিল ৭ নম্বরে। ২১ বল খেলে ২১ রান করে আউট হয়ে যান তিনিও।
মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহও আউট হলেন শেষ মুহূর্তে। অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা এবং হার্দিক পাণ্ডে নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন সুরেশ রায়না, এবং আশিষ নেহরা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :