রাত ৩:২২, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / মাঠের বাইরেও দেখা মিলল সেই অধিনায়কের
মাঠের বাইরেও দেখা মিলল সেই অধিনায়কের
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৬

ইতিহাস গড়েছেন একটু আগেই। বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন, যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সাফল্য। সে জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও নিলেন। চোখে মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ। কিন্তু দলের জয়ে নিজের কৃতিত্বকে মোটেও আলাদা করে দেখতে চাইলেন না। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েও নিজের কথা তো বললেনই না, বরং সব কৃতিত্ব ভাগ করে দিলেন সতীর্থদের। এমনকি ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না সমর্থকদের। বললেন, ‘সমর্থকদের জন্যই ​এই জয়।’
এটাই তো আসল অধিনায়কের পরিচয়। যিনি পুরো কৃতিত্ব দিয়ে দেন সতীর্থদের। আর চাপ, ভুল ও ব্যর্থতা নিজে বুক পেতে নিয়ে নেন। বয়স মাত্র ১৯। কিন্তু মাঠের বাইরেও দেখা মিলল মাঠের সেই দুর্দান্ত অধিনায়কেরও।
প্রতিপক্ষ নেপাল বলে বাংলাদেশকে ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু এশিয়ার নবীনতম ক্রিকেট শক্তি দাঁতে দাঁতে চেপে লড়েছে আজ। ব্যাটিংয়ে তো একপর্যায়ে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। মনে হচ্ছিল ২৫০-ই করে ফেলবে নেপাল। কিন্তু তখনই মিরাজ দেখিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ। মোট সাতজনকে দিয়ে বোলিং করিয়েছেন। একের পর এক বোলিং পরিবর্তন করেছেন।
নিজে ভালো বোলিং করছিলেন না জন্য সরিয়ে এনেছেন। আবার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিরে এসে একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। আরিফ শেখ তখন বেশ জমিয়ে ব্যাটিং করছেন। এমন সময় ২০ ওভার পর সাইফকে ফেরালেন বোলিং আক্রমণে। ফিরেই সাইফ তুলে নিলেন আরিফকে। ফিল্ডিং সব সময় গলা চড়িয়ে সতীর্থদের উজ্জীবিত রেখেছেন। বাংলাদেশ দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে চার ব্যাটসম্যানকে রান আউট করেছে আজ।
কিন্তু অধিনায়ক তাঁর আসল পরিণতবোধের পরিচয় দিলেন ব্যাটিংয়ে। এমনিতে দলের টপ অর্ডার দারুণ ফর্মে থাকায় সব সময় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান না। মিডল অর্ডার তাতে স্বস্তি পেলেও এটি তাদের জন্য পরীক্ষারও। হুট করে কোনো দিন টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে তো তাদেরই সামলাতে হবে। আজ ছিল সেই পরীক্ষার দিন। তাতে মিরাজ পেলেন গোল্ডেন এ প্লাস!
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে পঞ্চম উইকেটে রেকর্ড ১১৭ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত থেকেই ফিরেছেন। কিন্তু ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সবার আগে ​জাকিরের নামটাই মনে পড়ল তাঁর। যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, জাকিরও তো ম্যাচের সেরা, ‘এই জয়ে আমরা অবশ্যই খুব খুশি। আমি যখন ব্যাট করতে নামলাম, দল তখন বিপদে ছিল। কিন্তু জাকির অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। আমাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছে সে।’
এরপরই ম্যাচ জয়ের ফর্মুলাটা জানিয়েছেন। সেখানে শুধু জাকিরের প্রশংসা, ‘আমি ব্যাটিংয়ে নামার সময়ই জাকির সতর্ক করে দিয়েছিল বাউন্ডারির মারার ব্যাপারে। সে বলল শুরুতে সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে। উইকেট খারাপ ছিল না, কিন্তু বল মাঝে মাঝেই নিচু হয়ে আসছিল। আবার মাঝে মাঝেই বেশি ঘুরছিল বল। তবে এক-দুই করে রান তোলায় ম্যাচটি পরে সহজ হয়ে গিয়েছিল।’
টুর্নামেন্টে আজই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ খেলতে নেমেছিল মিরাজরা। বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিয়ে গেলেন, এ জন্যও ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না, ‘দর্শকদের ধন্যবাদ আমাদের এভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য। তাঁদের এমন সমর্থনেই ম্যাচ জিতেছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বপ্নযাত্রাটি আরেকটু লম্বা করার আশাটাও জানিয়ে দিলেন মিরাজ, ‘প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। আমরা এ নিয়ে রোমাঞ্চিত। সেমিফাইনালে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
প্রত্যাশা তো বাড়বে, স্বাভাবিক। বাড়বে চাপ, দায়িত্বও। তবে মিরাজরা যেন মনের আনন্দে খেলে যেতে পারেন, সেই প্রার্থনাতেও নিশ্চয়ই শামিল ৩২ কোটি হাত!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :