সন্ধ্যা ৭:৩০, সোমবার, ২০শে মে, ২০১৯ ইং
/ এসএ গেমস / ভারোত্তোলকদের টার্গেট স্বর্ণ জয়
ভারোত্তোলকদের টার্গেট স্বর্ণ জয়
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬



আর মাত্র কয়েকদিন, ৫ফেব্র“য়ারী থেকে ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে শুরু হচ্ছে ১২তম এসএ গেমস। গেমসে মোট ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২২টিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার অলিম্পিক এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে গেমস উপলক্ষে দলের প্রস্তুতি ও পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা উল্লেখ্য করেন এবারের গেমসে ভারোত্তোলন, শ্যূটিং, বক্সিং, তায়কোয়ানদো ও আরচ্যারীতে ভাল ফলাফলের আশা করছেন। বর্তমান সময়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারোত্তোলন দলের যে পারফরমেন্স তা আশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।
প্রচেষ্টার সঙ্গে ভাগ্যের একটু ছোঁয়া যোগ হলেই ভারোত্তোলনে গতবারের প্রাপ্তিতে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) দ্বাদশ আসর নিয়ে এমনটাই ভাবনা ভারোত্তোলকদের। এ ভাবনা দেখাচ্ছে একাধিক সোনার পদক পাওয়ার স্বপ্নও। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে শুরু হতে যাওয়া এসএ গেমস সামনে রেখে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে হামিদুল-সীমান্ত-সাথীদের অনুশীলন।
ক্যাম্পে থাকা আট পুরুষ ছেলে ও সাত নারী প্রতিযোগী ভারোত্তোলক এসএ গেমসের মোট ১৫টি ইভেন্টে পদকের লড়াইয়ে নামবেন এবার। বাংলাদেশের মেয়েরা এবারই প্রথম এসএ গেমসের ভারোত্তোলনে পদকের লড়াইয়ে নামবে। এ নিয়ে মোল্লা সাবিরা সুলতানার মতো অভিজ্ঞরা যেমন রোমাঞ্চিত; মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, রোকেয়া সুলতানা সাথী, জহুরা আক্তার রেশমা, ফিরোজাদের উচ্ছ্বাসও অনেক।
ছেলেদের তুলনার এবার মেয়েদের কাছে পদকের আশাটা ঢের বেশি। মেয়েরাও জানিয়েছেন ভারতের আসরে দেশের ‘ভার’ বইতে প্রস্তুত তারা। এসএ গেমসে বাংলাদেশকে ভারোত্তোলন থেকে প্রথম সোনার পদক এনে দেওয়া হামিদুলও দিয়েছেন মুকুট ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি।
একটি সোনা, ছয়টি রূপা আর ১৮টি ব্রোঞ্জ-এসএ গেমসের ভারোত্তোলন থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন। সোনার পদকটি গত আসরে নিজের দেশে ৭৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিতেছিলেন হামিদুল ইসলাম। এসএ গেমসে ২০০৪ সালে রূপা, ২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ জেতা সেনাবাহিনীর এই ভারোত্তোলক দেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানালেও মুকুট ধরে রাখতে প্রত্যয়ী। ১৯ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হামিদুল বলেন, “গতবার সোনা জিতেছিলাম। এবারও শারীরিক অবস্থা ভালো। প্রস্তুতির জন্য আরেকটু বেশি সময় পেলে ভালো হতো। তারপরও প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। আশা করি, গত আসরের সাফল্য ধরে রাখতে পারব।”
এবারের বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন মহিলা কোচ শাহরিয়া সুলতানা সূচি এবং পুরুষ কোচ ফারুক সরকার কাজল। মেয়েদের কোচ শাহরিয়া সুলতানা সূচি তার অধিনে অনুশীলন করা সাত মেয়েকে নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন- প্রথমবার এসএ গেমসে মেয়েরা অংশ নিচ্ছে। যেভাবে মেয়েরা পরিশ্রম করছে তাতে আশা করি সাতটি মেয়েই কোন না কোন পদক পাবে। আমাদের মূল প্রতিপক্ষ ভারত। তাদের বিট করতে পারলেই স্বর্ণ পেয়ে যেতে পারে মেয়েরা। আশা করি মেয়েরা অনেক ভালো রেজাল্ট করবে।
এদিকে, এবং পুরুষ কোচ ফারুক সরকার কাজল জানান, দলের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া হামিদুলসহ অন্য অভিজ্ঞ ভারোত্তোলকদের নিয়ে আশা করি ভালো করবে। পদক পুরুষ বিভাগ থেকে কিছু না কিছু আমরা পাওয়ার আশা করছি। সময় মত ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকলে দেশের জন্য স্বর্ণও পেয়ে যেতে পারে আমাদের ভারোত্তোলকরা।
২০১৪ সালে উজবেকিস্তানের আফ্রো-এশিয়ান গেমসে জুনিয়র বিভাগে রূপা, ২০১৫ সালে কাতার এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়কে গত বছরই ছাপিয়ে গেছেন সীমান্ত। ভারতের পুনেতে হওয়া কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপের ইয়ুথ বিভাগে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয়ের কৃতিত্ব দেখান তিনি। সিনিয়রদের সঙ্গে এবার প্রথম লড়বেন তিনি। প্রথম এসএ গেমস, সিনিয়রদের সঙ্গে লড়াই নিয়ে রোমাঞ্চিত এই ভারোত্তোলক অবশ্য প্রত্যশার চাপ নিতে চান না। “নিজের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি।
পুনে ইয়ুথ কমনওয়েলথ গেমসের চেয়েও এখন পারফরম্যান্স ভালো। ওই আসরে সিনিয়রে যে গোল্ড পেয়েছিল, তার চেয়ে একটু পিছিয়ে আছি কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে হয়ে যাবে। অনুশীলন একটু কঠিন হচ্ছে কিন্তু পদক পাওয়া নিয়ে কোনো চাপ নেই।”
তুরস্কে হওয়া সর্বশেষ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে (সিনিয়র) ব্রোঞ্জ জেতেন সাথী। ওই আসরে ছেলেদের বিভাগ থেকে মইনুল ইসলামও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবার ব্রোঞ্জ পদক ছাপিয়ে যাওয়া লক্ষ্য সাথীর। “প্রস্তুতি ভালো। জাতীয় পর্যায়ে সোনার পদক জিতেছি; কিন্তু বিদেশের মাটিতে গোল্ড জেতা হয়নি। আশা আছে দেশের জন্য কিছু করা। আশা করি, এসএ গেমসেই ভালো কিছু করতে পারব।”
টুর্নামেন্টের স্বাগতিক ভারতের প্রতিযোগীরা বাংলাদেশের মুল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে জানিয়ে সাথী আরও বলেন, “ওরাও তো আর পিছিয়ে নেই। কিন্তু আমাদেরও ভালো সুযোগ আছে। কেননা, এ মুহূর্তে আমাদের মেয়েরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলছে; সাফল্যও পাচ্ছে। এটা আমরা ধরে রাখতে চাই।”
বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অভিজ্ঞ সাধারন সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ এসএ গেমসে দলের প্রস্তুতি এবং প্রাপ্তি নিয়ে বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা ১২মাস অনুশীলনের মধ্যে থাকে। কারণ এটি বডি ওয়েটের খেলা। ওজন ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন অনুশীলন করতে হয়। আর ১২তম এসএ গেমস উপলক্ষে বিওএ’র আর্থিক সহযোগিতায় আমাদের দলের অনুশীলন ভালো হয়েছে। বিওএ আমাদের নিয়ে আশা করছে। আমরাও তাদের সেই আশার প্রতিদান দিতে চায়। মেয়েরা যেহেতু প্রথমবার অংশ নিচ্ছে তাই তাদের নিয়ে আমাদের আশাটা একটু বেশি। সবমিলে আমি আশা করি এবারের এসএ গেমসে আমার দল ভালো ফলাফল করবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :