বিকাল ৩:৪৪, শনিবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বটা দিয়ে রাখলেন মিরাজ
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বটা দিয়ে রাখলেন মিরাজ
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে এবারের দল। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের মঞ্চে ওঠা হলো না। তবে দেশকে ট্রফি এনে দেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিয়ে রাখলেন এখনকার অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ২০০৬ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে দলটির পঞ্চম হওয়া। সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে এবার প্রথমবারের মত যুব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। হাতছানি ছিল আরও বড় সাফল্যের। শিরোপা জয়ের সব সম্ভাবনাই ছিল এবারের দলটির। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে শেষ হয়েছে ফাইনালের আশা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির নানা হিসাব-নিকাশ মেলানোর চেষ্টা করলেন মিরাজ।
“চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হওয়া বড় কথা নয়। ১৬টি দলের বিশ্বকাপ, ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে আমরা ওপরের দিকে আছি। একটা বিশ্বকাপে আমরা সেরা তিন-চারে আছি, এটাও কম কথা নয়।”
সবশেষে জানিয়ে রাখলেন, দেশকে যুব ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করতে আগ্রহ ভরে তাকিয়ে থাকবেন উত্তরসূরীদের দিকে। “আস্তে আস্তে আমরা উন্নতি করছি। মুশফিক ভাইরা পাঁচ নম্বর হয়েছিল, আমরা আরেকটু এগোলাম। আশা করি, সামনের প্রজন্ম আরও এগোবে। ওরা চিন্তা করবে, চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ হতে হবে।”
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারেননি স্পিনাররা।
“আসলে স্পিনাররা কেউই ভালো বোলিং করিনি। স্পিনাররা যদি ভালো বোলিং করত তাহলে ওরা এই রানও এই উইকেটে করতে পারত না।”
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ ওভার শেষে তার স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৪৪ রান। মিরাজ মনে করেন, এটাই এগিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
“শুরুতেই ওদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অ্যাটাকিং খেলছে, ওটা কাজে দিয়েছে। ওটা ওদের চাপ কমিয়ে দিয়েছে। ওটা অনেক ‍গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
ফাইনালে যেতে না পেরে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ মিরাজ। প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে পৌঁছানোকেই এবারে আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ স্বীকার করে নিলেন, চাপটাই পেয়ে বসেছিল দলকে। “আমরা সবাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেট খেলি। আমরা যতই বলি চাপ নিব না, কিন্তু চাপ এসেই যায় নানা ভাবে। মাঠে সব সময়ই চাপ থাকে। এত দর্শকের সামনে কেউ কোনো দিনও খেলেনি, এটা স্বাভাবিকভাবেই চাপ। সেমি-ফাইনাল ম্যাচ জিততে হবে, সেই চাপ।”
সময়ের বাস্তবতার কাছে হার মানলেও বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। “আমাদের বয়স এখনও কম। এতকিছু সামলে ওঠা, এখনও আমরা অভ্যস্ত নই। এবার অভিজ্ঞতাটা হলো। আমরা পরিস্থিতিটা দেখেছি, দর্শকের সামনে খেলছি, আমরাও বেড়ে উঠছি। আশা করি, সামনে কখনও এরকম সমস্যা হবে না।”
“আমি যদি শেষ করতে পারতাম তাহলে ২৫০ রান হত। আমি আউট হওয়ার পরের বলেই সাইফুদ্দিন আউট হয়েছে। এদিকে আমরা পিছিয়ে গেছি।”
সেই সময়ে কেন ঝুঁকি নিতে চেয়েছিলেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অলরাউন্ডার মিরাজ, “আমাদের ৫ ওভার বাকি ছিল, ৫ উইকেট হাতে ছিল। ঝুঁকি তখন নিতেই হবে। একটা-দুটা চার-ছয় যদি হয়ে যায় তাহলে পরে আমার স্বাভাবিক খেলা খেলা যাবে।”
শেষ ৫ ওভারে ৩০ রান যোগ করতে শেষ পাঁচ হারায় বাংলাদেশ। ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেটে জিতে ফাইনালে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের অধিনায়কের বিশ্বাস, স্কোর বোর্ডে আর ২০ রান যোগ করতে পারলে খেলার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত।
কোয়ার্টার-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক জানান, সেই চাপ এড়াতে সেমি-ফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ের লক্ষ্য ছিল তাদের। “উইকেট একটু মন্থর ছিল। এখানে আগে ব্যাটিং করলে ভালো …আসলে সব সময় চাপে খেলা ভালো হয় না। আজকেও চাপের মধ্যে ভালো করতে পারিনি। আমরা যদি আগে ব্যাট করে ২৪০/২৫০ রান করি তাহলে যে কোনো দলের জন্য আমাদের হারানো কঠিন হবে।”



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :