বিকাল ৩:৩২, বৃহস্পতিবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ এসএ গেমস / ফুটবলে স্বর্ণ হারালো বাংলাদেশ
ফুটবলে স্বর্ণ হারালো বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৬

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসের পুরুষ ফুটবলের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে। শনিবার ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজ শিবিরকে। ডিফেন্ডারদের ভুল আর বাজে রেফারিংয়ের কারণে এমন হার সফরকারীদের। তপু-রায়হান-রেজারা যা খেলেছেন, তাতে ফুটবলকে নিয়ে কোন আশাই দেখা যাচ্ছে না। এ ম্যাচে শুধু হার নয়, সঙ্গী হয়েছে জামাল ভুইয়ার লাল কার্ডের লজ্জা এবং কোচ গঞ্জালো মরেনো সানচেজকে মাঠ থেকে বের করে দেয়া। ম্যাচ শেষে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেয়ার অপরাধে মিডফিল্ডার জামালকে লাল কার্ড দেখানো হয়। আর কোচ মরেনোকে ডাক আউট ছাড়া করা হয় ম্যাচ চলাকালীন ডাক আউটের বাইরে এসে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার অপরাধে। ম্যাচ শেষে রেফারির বাজে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেন সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীও,-‘রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের বিরুদ্ধে গেছে। স্বাগতিক ভারত বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। দল ভালই খেলছিল। নিজেদের ভুলে গোল হজম করেছি। বিপরীতে ভালকিছু সুযোগ সৃষ্টি করেও গোল করতে পারিনি। এটাই ফুটবল, এখানে এমনটা হয়েই থাকে।’
আগের দিন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ফেবারিটই বলেছিলেন কোচ মরেনো। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে অপরিকল্পিত-অগোছালো ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন ফুটবলাররা। সেমিফাইনালের আগের দিন অনুশীলন শেষে আগের দুই ম্যাচের ভুল আর হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি। ভুল পাস আর অগোছালো ফুটবলই সঙ্গী ছিল। ভাগ্যের সহায়তায় গ্রুপ পর্বের বাঁধা টপকাতে পারলেও শনিবার আর সেটা হয়নি। হারের লজ্জা নিয়ে এখন ব্রোঞ্জের জন্য লড়তে হবে বাংলাদেশকে।
ফুটবলে চলছে টানা ব্যর্থতা। দিন দিন ফুটবল যে রসাতলে যাচ্ছে, তার প্রমান আরও একবার পাওয়া গেল ইন্দিরা গান্ধীতে। সাফে ব্যর্থতার পর ঘরের মাটিতে বঙ্গবন্ধুতেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল জাতীয় দল। অগ্রজদের পদাঙ্ক অনুসরন করে অলিম্পিক দলও ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে রইল।
আগের দিন ইন্দিরা গান্ধী আউটার স্টেডিয়ামে দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও শনিবার মাঠে দেখা যায়নি মধ্যমাঠের ভরসা হেমন্ত ভিনসেন্টকে। ইনজুরিতে থাকায় তাকে দলের বাইরে রেখেই একাদশ সাজাতে হয়েছিল কোচ মরেনোকে। মধ্যমাঠ সাজাতে হয়েছিল মাসুক মিয়া জনিকে দিয়ে। কিন্তু কোচের আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু মধ্যমাঠই নয়, রক্ষন ও আক্রমনভাগও ছিল অগোছালো। এলোমেলো ফুটবলের চূড়ান্ত নিদর্শন ছিল এদিন। ডি-বক্সের সামনে গেলেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। বল রিসিভ করতেও যেনো ভুলে গিয়েছিলেন লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। ভারতের পরিকল্পিত আক্রমনের সামনে অসহায় ছিলেন তারা। সফরকারীদের অসহায়ত্ব আর নিজ দেশের হাজার তিনেক সমর্থকের সমর্থন নিয়ে দূর্দান্ত ফুটবল খেলেছে ভারতীয় দলটি। ম্যাচের ২১ মিনিটেই এসএ গেমসের সোনা পূনরুদ্ধারের ম্যাচে নিজেদের এগিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার রেজাউল করিমের ভুলে গোল পেয়ে যায় ভারত। ছোট বক্সের ভেতরে বল কিয়ার করতে পারেননি বাংলাদেশী অধিনায়ক। পায়ের সামনে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় তা জালে পাঠিয়ে দেন কুমান উদান্তা সিং (১-০)। তিন পর ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি সোহেল রানা। তার দূর্বল শট ভারতের গোলরক্ষক রেয়েনেশ সহজেই বুকে জড়িয়ে নেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে ভারতকে আরও একধাঁপ উপরে নিয়ে যান জাতীয় দলে খেলা মাউইহিমিংতাঙ্গা। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে বাংলাদেশী গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদকে পরাস্ত করেন তিনি (২-০)।
প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া মরেনো শিষ্যরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল তখনি। ফুটবলারদের মানসিকভাবে আরও ভেঙ্গে দিয়েছিল নেপালি রেফারি লাবা খাত্রির বেশ কয়েক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে নাবিব নেওয়াজ জীবনকে ফেলে দিলেও নিশ্চিত পেনাল্টি দেননি এ রেফারি। রেফারির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় কোচ মরেনোকে ডাক আউট থেকে বের করে দেয়া হয়। সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী দাঁড়িয়ে যান ডাক আউটে। পাঁচ মিনিট পর অফ সাইডে থেকে স্বাগতিক মিডফিল্ডার যয়েশ গোল করলেও তাতে কোন বাঁধা দেননি রেফারি লাবা খাত্রি (৩-০)।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :