সকাল ১০:৪৮, বৃহস্পতিবার, ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / প্রথম টুর্নামেন্টে সেরার বাসনা মুস্তাফিজের
প্রথম টুর্নামেন্টে সেরার বাসনা মুস্তাফিজের
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠেছিল গত বছর। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের টি২০ ম্যাচে। সেই ম্যাচে ততটা আলোচিত হতে পারেননি। তবে একই বছর জুনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার অফ-কাটারে বিধ্বস্ত হয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে হার মানতে হয়েছিল শক্তিশালী ভারতকে। এরপর মুস্তাফিজ জাদুতে সিরিজ জিতেও নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে মুস্তাফিজ সবার কাছে পরিচিত কাটার মাস্টার হিসেবে। দেশে-বিদেশে তুমুল আগ্রহ তাকে ঘিরে। আসন্ন এশিয়া কাপেও তাই বাংলাদেশের এই তরুণ পেস সেনসেশন থাকছেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। আর মুস্তাফিজও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সেই আসর শুরুর। কেননা, এশিয়া কাপের আসরটি হবে জাতীয় দলের জার্সিতে এই তরুণ পেসারের প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ। আগে যে কয়েকটি ম্যাচ তিনি খেলেছেন, সেগুলো ছিল দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ। মুস্তাফিজ তাই নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট (জাতীয় দলের হয়ে) নিয়ে রোমাঞ্চিত। এই আসরে নিজের বাংলাদেশকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার স্বপ্ন তার।
এশিয়া কাপ সামনে রেখে শনিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বেলা ৩টায় বিসিবি একাডেমি জিমনেশিয়ামে শরীর চর্চার মধ্য দিয়ে অনুশীলন শুরু করেন মাশরাফিরা। পরে সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটে ফিল্ডিং অনুশীলনও করেছেন তারা। আর সবার সঙ্গে মুস্তাফিজও অখণ্ড মনোযোগে অনুশীলন করেছেন। অনুশীলন শেষে মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। কাটার মাস্টার বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে এর আগে আমি খেলিনি। এটাই প্রথম। যে কারণে ভাল লাগাটাও অন্যরকম। আমাকে টিমে রেখেছে, এ জন্য কোচ ও নির্বাচকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখানে আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তবে এশিয়া কাপে না খেললেও এই আসরে বাংলাদেশের বিগত খেলাগুলো দেখেছিলেন তিনি। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। শিরোপা জেতার মতো মঞ্চও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ অব্দি পাকিস্তানের কাছে দুঃখজনক হারে সেই সম্ভাবনা মলিন হয়ে যায়। সেদিন স্টেডিয়াম ভর্তি বাংলাদেশি সমর্থকরা স্বপ্নের এমন অপমৃত্যুতে চোখের জলে ভেসেছিলেন; কেঁদেছিলেন ক্রিকেটাররাও। ফাইনালটি মামার বাড়িতে টেলিভিশনে দেখেছিলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের সেই অশ্রুসিক্ত সেই ফাইনালের কথা কাটার মাস্টারের ভালই মনে রয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে জাদু মাখানো বোলিং দিয়েই মুস্তাফিজের আবির্ভাব। এবারের এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সেই ভারতেরই মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে মুস্তাফিজ কি ভাবছেন? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ভাল করেছি বলে এবারও তেমনটা করব, বিষয়টা আসলে তা নয়। আসলে সব সময়ই চেষ্টা করি ভাল করার। বেস্ট ইলেভেনে রাখলে আমি অবশ্যই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে টুর্নামেন্ট ঘিরে তেমন কোনো নতুন পরিকল্পনা নেই। আগে যেমনটা আমি খেলেছি, সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাই।’
মুস্তাফিজ আরও বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আমরা দুটি ভিন্ন পরিবেশে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি; খুলনা এবং চট্টগ্রাম। সব মিলিয়ে আমাদের ভাল অনুশীলন হয়েছে। টুর্নামেন্টে ভাল করার ব্যাপারে দলের সবাই আত্মপ্রত্যয়ী। আশা করছি দারুণ কিছুই হবে। বোলিংয়ের পাশাপাশি এবার আলাদা করে ব্যাটিংয়েরও মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়েছি। দলের প্রয়োজনে অবশ্যই তা কাজে লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
মাঝে হুট করেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে তিনি এশিয়া কাপে শেষ অব্দি খেলতে পারবেন কিনা— তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে বোলিং মোটামুটি শুরু করছি। ততটা অসুবিধা অনুভব করছি না। হাতে যেহেতু এখনো ৪ দিন আছে (এশিয়া কাপ শুরু হতে), এই ক’টা দিন প্র্যাকটিস করতে পারলে আগের মতোই বোলিং করতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস।’
এশিয়া কাপের এবারের আসরটি হবে টি২০ ফরম্যাটে। এই ফরম্যাটে খেলা কঠিন কিনা? মুস্তাফিজের কাছে রাখা হয়েছিল সেই প্রশ্ন। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘খেলতে পারলে সবই ফরম্যাটই সহজ। তবে আমার কাছে ওয়ানডে ম্যাচগুলোই বেশি ভাল লাগে। এরপরও এশিয়া কাপে আমার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।’
এশিয়া কাপে কী বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে? মুস্তাফিজের উত্তর, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমরা চেষ্টা করি জয়ী হওয়ার। আর এটাকেও (বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া) আমি কঠিন কিছু বলে মনে করি না।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :