সকাল ৭:২২, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ এসএ গেমস / ইতিহাস গড়তে চাই একটি জয়
ইতিহাস গড়তে চাই একটি জয়
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬

মহিলা হ্যান্ডবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : মহিলা হ্যান্ডবলের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পরই গোলরক্ষক নিয়ে শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলের প্রধান গোলরক্ষক শিলা রায় মায়ের মৃত্যুর কারণে গোহাটি ছেড়ে দেশে ফিরেছেন। আর দুই নম্বর গোলরক্ষক হাতে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি সেদিন। তাই ফাইনালে উঠার ম্যাচে গোলবার আগলে রাখার দায়িত্ব কার কাঁধে তুলে দেয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তার কোন কমতি ছিল না লাল-সবুজ শিবিরে। অবশেষে সেই শঙ্কা দূর করে রোববার নেপালের বিরুদ্ধে হাই পাওয়ারের পেইন কিলার সেবন করেই মাঠে নেমে পড়লেন সুশিলা। দেশের সম্মানের কথা ভেবে চোট নিয়েও গোলবারে দাঁড়িয়ে যান তিনি। তাতে কোন সমস্যাও হয়নি। জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে শাহিদা খাতুনরা। নেপালের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জয়টা এসেছে ৩৩-২৮ গোলে। এই প্রথম এসএ গেমসের ফাইনালে বাংলার মেয়েরা। ইতিহাস গড়তে আরেকটি জয় চাই বাংলাদেশের। সোমবার স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে স্বর্ণ জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নামতে হবে দিদার হোসেনের শিষ্যদের।
রোববার সোনাপুরের এলএনআইপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে মাঠে নেমেই নেপালের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে ১৩-১১ পয়েন্টে এগিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। একটা সময় শঙ্কা জেগে উঠেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধারটা ধরে রেখেছিল লাল-সবুজ শিবির। অবশেষে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে তারা। দলের হয়ে ৮টি করে গোল করেন নিশি ও শিল্পী। ৬টি গোল করেন শিরিনা। ডালিয়া ৫টি, সুমি ৪টি ও খালেদা করেন দুই গোল। ফাইনালে ওঠায় এখন স্বর্ণ জয়ের হাতছানি মেয়েদের সামনে। যদিও প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। তারপরও আতœবিশ্বাসী কোচ দিদার হোসেন বলেছেন,-‘ফাইনালে আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলতে হবে। এমনিতেই আমাদের খেলোয়াড় কম। দুজন সেরা খেলোয়াড়কে পাইনি এই ম্যাচে। গোলরক্ষক সুশীলাও হাতের ব্যথা নিয়ে খেলেছ। আমরা তাই ব্যাকফুটেই রয়েছি। তারপরও মেয়েরা তাদের সেরাটা দিয়েই সোনার জন্য লড়াই করবে।’
নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল-জানিয়ে অধিনায়ক শাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম হিমালয়ের কন্যাদের হারানোর ব্যাপারে। আমরা গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্য দিয়ে এবারের আসর শুরু করেছিলাম। এরপর একে একে মালদ্বীপ ও পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছি। তাই ভারতকে নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। আমরা কালকের (সোমবার) ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’ সেমি ফাইনালে নেপালকে হারানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল হিসেবেই খেলছি। স্বর্ণ জয়ের সক্ষমতা আছে আমাদের। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য আমরা দলের প্রধান গোলরক্ষক শিলা রায়কে পাচ্ছি না। মায়ের মৃত্যুর কারণে শুক্রবার ভারত ছাড়তে হয়েছে তাকে। সেকেন্ড গোলরক্ষক সুশিলাও ইনজুরিতে।’
মহিলা দল ফাইনালে উঠলেও ব্যর্থ হয়েছে পুরুষ হ্যান্ডবল দল। এদিন সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৩৪-১৯ গোলে হেরেছে তারা। প্রথমার্ধ্বে ১৪-০৯ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পুরুষরা এখন ব্রোঞ্চের লড়াইয়ে নামবে, আর মেয়েরা খেলবে হ্যান্ডবলে ইতিহাস গড়তে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :