রাত ২:৪০, শুক্রবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / খেলা রূপা-ব্রোঞ্জের ট্র্যাকেই অ্যাথলেটিকসের দৌড়
খেলা রূপা-ব্রোঞ্জের ট্র্যাকেই অ্যাথলেটিকসের দৌড়
জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) সবচেয়ে বেশি সোনার পদকের লড়াই হয় অ্যাথলেটিকসে। কিন্তু মর্যাদার এই ডিসিপ্লিনের ৩৮ ইভেন্ট থেকে এবার বাংলাদেশের সোনার চাওয়া নেই সে অর্থে। রূপা আর ব্রোঞ্জকেই ঘিরেই চলছে যত হিসেব, নিকেষ।
নয়টি সোনা, ১৭টি রূপা, ৩১টি ব্রোঞ্জ-দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) গত এগারোটি আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে এই ইভেন্ট থেকে সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝে ২০১০ সালে নিজেদের ট্র্যাকে সোনার পদক অধরা থেকে গেছে। এবারও তা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কেননা, যাদের হাতে স্বপ্ন পূরণের ভার, সেই মেজবাহ, শিরিনরাও জোর গলায় বলতে পারছেন না-আমরা পারবই। টাইমিংয়েও মিলছে না তার আভাস।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে শুরু হবে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর। অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ২০টি, মেয়েদের ১৮টি ইভেন্টে পদকের লড়াই হবে। মেজবাহ, শিরিনদের কথায় এই ৩৮টি সোনার পদক প্রতিপক্ষের দিয়ে রেখে রূপা আর ব্রোঞ্জের ছকে থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে!
গত বছর অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলছে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি। কোচ আব্দুল্লাহেল কাফির পর্যবেক্ষণও বলছে না, ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসের ১১০ মিটার হার্ডলসে মাহফুজুর রহমান মিঠুর সর্বশেষ সোনা জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তার বর্তমান ২৬ শিষ্যের কারো আছে। যা একটু সোনা জয়ের আশ্বাস শুনিয়েছেন, তা লং জাম্পার আল আমিন।
হালের অ্যাথলেটিকস এগিয়ে অনেক; বাংলাদেশ রয়েছে সেই হাতঘড়ির (হ্যান্ড টাইমিং) যুগে! তাতে মেজবাহ, শিরিন, সোহাগী, চুমকিরা ঠিক কত সেকেন্ড দৌড় শেষ করলেন, তা-ই জানা যায় না। এর সঙ্গে এবার প্রস্তুতির সময়ের স্বল্পতা যোগ হওয়ার কথা জানালেন কোচ কাফি।
“প্রস্তুতি মোটামুটি। যতটুকু সময় পেয়েছি, তাতে প্রস্তুতি খুব একটা ভালোও না, মন্দও না। সোনার পদকের স্বপ্নটা আমরা ওভাবে দেখাচ্ছি না। তবে রূপা আর ব্রোঞ্জ আগের তুলনায় ভালোই হবে।”
১০০ মিটার, ২০০ মিটার, ১০০ মিটার রিলে ও লং জাম্প-এই চার ইভেন্ট থেকে পদকের আশা বেশি জানিয়ে কাফি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের ব্যবধানটাও জানান।
“(১০০ মিটার) শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপের ছেলেরা ভালো। জেনেছি, ভারতের একটা মেয়ে গত ডিসেম্বরে ১১.৪০ সেকেন্ডে দৌড়াছে, আমাদের শিরিনের হ্যান্ড টাইমে সেরা ১১.৮৪। পদকের খুব কাছাকাছি কিন্তু গোল্ড পাওয়ার জন্য তা যথেষ্ঠ নয়।”

তবু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যারা

এসএ গেমসের সবচেয়ে মর্যাদার ইভেন্ট ১০০ মিটার দৌড়ে বাংলাদেশের সর্বশেষ সোনা জয় বিমল চন্দ্র তরফদারের হাত ধরে; সেটা ১৯৯৩ সালের আসরে। ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দেশের দ্রুততম মানব হওয়া মেজবাহ ‘বিমল’ হয়ে ওঠার স্বপ্নটা দেখাচ্ছেন না।
“এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। প্রস্তুতি ভালো। টাইমিংও ভালো। সবাই গোল্ড জেতার জন্য নামে। আমি গোল্ড দিতে পারব কিনা জানি না, তবে এতটুকু বলতে পারি, ভালো একটা ফাইট হবে।”
এসএ গেমসের গত আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেছিলেন শ্রীলঙ্কার শেহান সায়েরুয়ানের আবেয়িপের (১০.৪৬ সেকেন্ড)। এই ইভেন্টে এসএ গেমসের রেকর্ড ১৯৯৯ সালের কাঠমান্ডুর আসরে ভারতের অনিল কুমারের (১০.৩৭ সেকেন্ড)। এসব তথ্য শুনে বাস্তবের মাটিতে নেমে আসেন মেজবাহ। “এত কম প্রস্তুতিতে তো আর অত কিছু আশা করা যায় না। তবে খালি হাতে ফিরব না; এটা নিশ্চিত।”
১২.২০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দেশের দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিনও রূপা-ব্রোঞ্জের ছকে থাকছেন। তবে প্রথমবারের মতো এসএ গেমসে খেলা বলে একটু বেশিই রোমাঞ্চিত তিনি, “পদক পাওয়ার আশা আছে। ইচ্ছা সোনার কিন্তু অতটকু তো সম্ভব নয়।”
১০০ মিটার রিলেতে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে মেয়েরা। শিরিন ছাড়াও রিলে দলে আছেন জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ৪০০ মিটারে সেরা হওয়া সোহাগী। গতবারের রূপাকে এবার তাই সোনায় রূপ দেওয়ার প্রত্যয় শামসুন্নাহার চুমকির, “গত গেমসের চেয়ে এবার প্রস্তুতির জন্য কম সময় পেয়েছি। তবে আমাদের রিলে দলটা ভালো। আমরা রিলেতে জোর দিচ্ছি, যেন আমরা দেশকে এখান থেকে গোল্ড দিতে পারি।”
গত আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ১০০ মিটার হার্ডলসে ফটো ফিনিশিংয়ে সুমিতা রানী দাসের রূপা পাওয়া ছিল উল্লেখ করার মতো প্রাপ্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এবার তাকে ভোগাচ্ছে। ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সুমিতাকে নিয়ে।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এরই মধ্যে ছিটকে দিয়েছে হাই জাম্পে আট বার জাতীয় রেকর্ড ভাঙা নৌবাহিনীর সজীব হোসেনকে। সজীবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মাহফুজুর রহমান ট্রায়ালে ১.৯৫ মিটার লাফিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভালো কিছুর।
ঘরের মাঠে গত এসএ গেমসে চাকতি নিক্ষেপে আজহারুল ইসলাম, মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে জেসমিন আক্তার, মেয়েদের ৪০০ মিটার রিলে এবং লং জাম্পে আল আমিন পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ। ২০০৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৪বার জাতীয় পর্যায়ে লং জাম্পে সেরা আল আমিন এবার সোনার খরা দূর করতে উন্মুখ। ২০১৩ সালে লং জাম্পের সেরার পদকটি যার কাছে হারিয়েছিলেন, সেই ইসমাইলও ভারতে যাচ্ছেন বলে আরও আত্মবিশ্বাসী আল আমিন।
“প্রতিবারই ভালো করতে চাই কিন্তু কেন যে হয় না। গতবার তো আমার সামনে থেকে গোল্ড নিয়ে গেল। এবার আমি আর ইসমাইল গোল্ডের জন্য যাব।”



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :