দুপুর ২:০১, বুধবার, ২৪শে মে, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / হকিতে ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙবে?
হকিতে ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙবে?
জানুয়ারি ২৮, ২০১৬

হকির বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ভারত সপ্তম, পাকিস্তান দশম; বাংলাদেশ ২৯তম। শ্রীলঙ্কা আরও পেছনে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) তাই ব্রোঞ্জের ছকে বাংলাদেশ। এর বাইরেও হিসাব আছে; তবে সেটা আশার নিরিখে। খেলোয়াড় হিসেবে এসএ গেমসের ব্রোঞ্জ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের বর্তমান কোচ মাহবুব হারুনের। এবারের বাস্তবতাও তার ভালো জানা। কিন্তু স্বপ্নটাকে কোনোভাবেই ছোট রাখতে চান না তিনি।
“ভারত-পাকিস্তানের পরেই আমাদের স্থান। যদি এখানে মিরাকল কিছু হয়ে যায়; আমরা তো ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করবই।”
এসএ গেমসে চার দল নিয়ে খেলা হবে লিগ ভিত্তিক। সেরা দুই দল নামবে সোনার লড়াইয়ে। বাকি দুই দল খেলবে ব্রোঞ্জের জন্য। ব্রোঞ্জের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে মাদ্রাজের আসরে এবং এরপর ১৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০১০ সালেও ব্রোঞ্জ।
দলবদলের গেরো খোলার পর শুরু হওয়া মাস দুয়েকের প্রস্তুতি নিয়েই ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙার ছক কষছেন হারুন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার ঘাটতি কিভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে দুর্ভাবনা আছে তার।
“ডিফেন্সিভ নয়, আমরা আক্রমণাত্মকই খেলব। প্রস্তুতিও খারাপ না। কিন্তু আমরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারছি না। এ নিয়ে উদ্যোগ ছিল কিন্তু সেটা কাজে লাগানো যায়নি। ফলে আমি কি শেখালাম, ওরা কি শিখল, কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছি না। সরাসরি আমরা টুর্নামেন্ট শুরু করব।”
৪৪ জন থেকে নেমে আসা ১৮ জনের চূড়ান্ত দলে অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেল চোখে পড়ার মতো। রাসেল মাহমুদ জিমি, কৃষ্ণ কুমার, পুস্কর খীসা মিমোর কাঁধে আক্রমণভাগের জোয়াল; রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ফরহাদ আহমেদ সিটুল, রেজাউল বাবুর; গোলপোস্ট আগলের রাখার জন্য অসীম গোপের সঙ্গে জাহিদও রয়েছেন। পেনাল্টি কর্নারের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা মামুনুর রহমান চয়নকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত দলে এবার জায়গা করে নিয়েছেন বিজয় দিবস হকিতে আলো ছড়ানো আশরাফুল ইসলাম। বিকেএসপির এই তরুণের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ খোরশেদুর রহমান।
বিজয় দিবস হকিতে পেনাল্টি কর্নার থেকে ১১ গোল করা আশরাফুলকে নিয়ে কোচ দারুণ উচ্ছ্বসিত। উঠতি এই তারকাও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছেন, “এসএ গেমসে দলকে যতগুলো সম্ভব গোল এনে দিতে চাই।”
গত দুই আসরের ব্যর্থতা এখনও তাড়া করে ফেরে জিমিকে। ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে লাল কার্ড পেয়েছিলেন জিমি; এরপর হেরে খালি হাতে দেশে ফেরা। পরের আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
“এবার লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। সেবার (গতবার) আমরা পাকিস্তানের কাছে জেতা ম্যাচ হেরেছি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হবে; ভালো একটা দলকে হারাতে হবে, তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।”
দল নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক সারোয়ার হোসেনও। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারা নিয়েও খুব একটা দুর্ভাবনা নেই তার, “বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করেছে।”
“প্রথম ম্যাচের জয়ের ভাবনা সবারই থাকে। তবে আমাদের ভাবতে হবে কাদের বিপক্ষে খেলছি। আমরা বলছি না তাদের (ভারত) বিপক্ষে জিতব, তবে লক্ষ্য থাকবে আগে যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে ভালো খেলার,” ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙতে আপাতত এতটুকুই অধিনায়কের পরিকল্পনা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :