ব্যাডমিন্টনে রূপার লক্ষ্য এলিনা-আইমানদের

ব্যাডমিন্টনে রূপার লক্ষ্য এলিনা-আইমানদের

গতবারের তুলনায় এবার প্রস্তুতি কম হলেও এলিনা-শাপলাদের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। তাই গতবারের ব্রোঞ্জটা ধরে রেখে এবারের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) ব্যাডমিন্টনের রূপার জন্য লড়াই করার প্রত্যয় শাটলারদের কণ্ঠে।
২০১০ গেমসের আগে নয় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল শাটলাররা। এবার প্রস্তুতি ছয় মাসের। বাংলাদেশের ১২ জনের দলে এবার ছেলে সাতজন, মেয়ে পাঁচজন।
এসএ গেমসের ব্যাডমিন্টনে এবার ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে সাতটি সোনার লড়াই হবে। প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার শক্তির কথা মাথায় রেখে এককের চেয়ে দলগত পদক পাওয়ার লক্ষ্য শাটলারদের। লক্ষ্য পূরণের আশায় গত নভেম্বরে আসা মালয়েশিয়ার কোচ বিবেক আনাংয়ের সঙ্গে কাজ করার কথা জানান আইমান-এলিনারা।
এসএ গেমসের ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশ প্রথম পদকের লড়াইয়ে নামে ২০০৪ সালে; সেবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। ২০০৬ সালের কলম্বো আসরেও কিছু পাওয়া হয়নি। ২০১০ সালে নিজেদের কোর্টে তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। মিশ্র দ্বৈতে শাপলা আক্তার-রাসেল কবির জুটি আর পুরুষ ও মহিলাদের দলগত ইভেন্ট থেকে এসেছিল ব্রোঞ্জ তিনটি।
গতবারের ব্রোঞ্জ জয়ী মহিলা দলের শাপলা খাতুন এবার দলগতের সঙ্গে এককেও ভালো করা আশা করছেন, “প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। পদকের চাওয়াটা—এবার রূপার জন্য লড়াই করব। আশা করি, টিম ইভেন্টের সঙ্গে এককেও ভালো লড়াই করব।”
পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে ঘরোয়ার এককের চ্যাম্পিয়ন এলিনা সুলতানাও জানালেন রূপার লক্ষ্যটা। তবে প্রস্তুতির সময়টা আরেকটু বেশি হলে লক্ষ্য পূরণের পথটা মসৃণ হতো বলে জানান তিনি।
“আমাদের গত আসরের রেজাল্ট ছিল ব্রোঞ্জ। গতবার নয় মাসের ট্রেনিং হয়েছিল। কিন্তু এবার ছয় মাসের অনুশীলন। এই ছয় মাসে আমরা যেভাবে অনুশীলন করেছি, তাতে বলতে পারি, ব্রোঞ্জ অবশ্যই ধরে রাখব; রূপার জন্য লড়াই করব।”
নিজের প্রথম এসএ গেমস বলে এলিনা দারুণ রোমাঞ্চিত। ভেতর থেকে আরও ভালো করার তাগাদা অনুভব করছেন দেশ সেরা এই মহিলা শাটলার। তবে প্রতিপক্ষের শক্তির বিবেচনায় লক্ষ্যটা দলগত ইভেন্টকে ঘিরে রাখার কথা জানালেন এলিনাও।
ছেলেদের ইভেন্টে আইমান ইবনে জামাম, আহসান হাবিব পরশদের কাছে এবার চাওয়াটা বেশি। ঘরোয়াতে ছেলেদের এককের সেরা আইমান প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই চাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
“মালয়েশিয়ান কোচ এসেছেন। প্রস্তুতিও চলছে ছয় মাস ধরে। মাঝে আমরা একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছি; ফলে ফর্ম ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো পর্যায়ে আছি আমরা। ভালো কিছু পাওয়ার চেষ্টাই করব আমরা। দেখা যাক কি হয়।”
ভারতকে সব দিক থেকে ‘ফেভারিট’ মেনে নিয়ে ধাপে ধাপে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটাও জানান আইমান, “ভারত এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান অনেক ভালো দল নিয়ে আসবে। আমরা একটু একটু করে আগাচ্ছি। আগেরবার ব্রোঞ্জ পেয়েছি। এবার চেষ্টা করব রূপা পাওয়ার।”
ব্যক্তিগত প্রথম এসএ গেমস বলে উৎসাহ যেমন আছেন, আইমানের ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। তবে বাংলাদেশের এক নম্বর শাটলার চাপ নিয়ে ভাবছেন না। “এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। জুনিয়র অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমসে খেলেছি। চাপ নিলেই আসলে এটা সমস্যা হয়। তাই কোনো চাপ নিচ্ছি না। কোচ যতটুকু বলবেন, যেভাবে বলবেন, সেটাই কোর্টে কার্যকর করার চেষ্টা করব।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD