রাত ২:২৩, বুধবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / ‘ডট’ বল ও সাইফউদ্দিনের উল্লাস
‘ডট’ বল ও সাইফউদ্দিনের উল্লাস
জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলার সময় থেকে ভারতের বিরাট কোহলি ও বাংলাদেশের রুবেল হোসেনের ‘শত্রুতা’! যুবক বয়সের সে শত্রুতা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দেখা গিয়েছে। কোহলি রুবেলের বল শাসন করলেই খুশি হয়ে যান। আবার রুবেল কোহলির উইকেট নিতে পারলে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন। এরকম ছোট-ছোট গল্প ক্রিকেটে অনেক রয়েছে।

 

নতুন করে হয়ত সে তালিকায় যোগ হচ্ছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের  অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও উইয়ান মুল্ডারের নাম। যুব বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুল্ডারকে আউট করে যেভাবে সাইফউদ্দিন উল্লাস করেছিলেন, তা নজর কেড়েছে সবার। প্রোটিয়া অলরাউন্ডারকে সরাসরি বোল্ড করে দুই হাত তুলে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা! অনেকটা পাকিস্তানের ‘বুম বুম’ খ্যাত শহীদ আফ্রিদির স্টাইল। তাতেও ক্ষান্ত নন সাইফউদ্দিন। দৌড়ে, দুই পা হাওয়ায় ভাসিয়ে একসঙ্গে জড়ো করে যে ভঙ্গিমায় উল্লাস করেছিলেন, সেটা অবিকল অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লির নকলই বলা চলে!

 

উল্লাস নিয়ে সাইফের ব্যক্তব্য, ‘উল্লাসে আমি কাউকে ফলো করি না। আমি আমার মতো করেই করি। শহীদ আফ্রিদির খেলা ভালো লাগে। কিন্তু আমি আমার মতো করেই উল্লাস করি।’

 

উল্লাস যেমনই হোক তা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা থাকার কথা নয়! দল জিতেছে, বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো যুব বিশ্বকাপের কাপ পর্বে খেলতে যাচ্ছে, সেটাই মূল কথা। সাফল্য পাওয়ার থেকে বড় কোনো আনন্দ তো আর হতে পারে না। কিন্তু মুল্ডারের প্রতি সাইফের ‘অতিরিক্ত’ ক্ষোভের কারণ কী?

 

 

উত্তরটা শুনুন সাইফউদ্দিনের মুখ থেকেই, ‘আসলে আমরা অনেক দিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে খেলছি। সেদিন স্লগ ওভারে আমি ওর বলে ব্যাটিং করছিলাম। বেশ কয়েকটি বলই বিট করতে পেরেছিলো ও। ‘ইশারা-ইঙ্গিতে’ ওই সময়ে অনেক কিছু হয়েছিল। আমার ইচ্ছে ছিল বোলিং করে আমি ওর উইকেটটা নিব। বোলিংয়ে আবার শুরুতেই ও আমার বলে চার মেরে দিয়েছিল। তখন উইকেট নেওয়াটা জোর আর বেড়ে যায়। সেটা পূরণ হয়েছে আর কি। এজন্যই ওরকম কিছু!’

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে উইয়ান মুল্ডারের ৯ বল খেলেন সাইফ। ৪টি ছিল ডট বল। ৩টি সিঙ্গেল ও ২টি দুই রান নেন সাইফ। তবে বল হাতে প্রতিশোধটা ভালোই নেন সাইফ। ডানহাতি এ পেসার মুল্ডারকে ৯টি বল করেন। প্রথম বলে বাউন্ডারি মারলেও পরবর্তী ৭ বলে একটি রানও নিতে পারেনি মুল্ডার। বোল্ড হওয়ার আগে দুই রান নিলেও তা ছিল শুধুই সান্তনাদায়ক!

 

দক্ষিণ আফ্রিকার কোরি এন্ডারসন ও ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসকে ফলো করা এ অলরাউন্ডারের ইচ্ছে, এবারের যুব বিশ্বকাপে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। টুর্নামেন্টে নিজের পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু শুরুটা ভালো করেছি। লক্ষ্য থাকবে অলরাউন্ডার হিসেবের নিজের রোলটা আরো ভালোভাবে প্লে করার। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, চাইব অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত খেলা।’

 

প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ রান ও বল হাতে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশে সচরাচর পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুব কমই এসেছে। যারা এসেছেন, খেলেছেন তাদের রাজত্বও বেশিদিনের নয়। ১৯ বছর বয়সি সাইফকে নিয়ে আশা দেখতেই পারে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস, আগ্রাসী মনোভাব, ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ও বোলিংয়ের কিপটেমি সাইফকে আলাদাভাবে চেনাচ্ছে। পেস অলরাউন্ডারদের একটু বাড়তি উত্তেজনা না থাকলে কি আর চলে? থাকুক না সাইফের সে উত্তেজনা। তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বারবার দেখবে ফেনির এ ক্রিকেটারের সাফল্য, উল্লাস।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :