সকাল ৭:১৭, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / টেপ টেনিসের অভিজ্ঞতায় বিশ্বকাপে উজ্জ্বল সাইফুদ্দিন
টেপ টেনিসের অভিজ্ঞতায় বিশ্বকাপে উজ্জ্বল সাইফুদ্দিন
জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

টেপ টেনিস দিনগুলিতে ইয়র্কারে হাত পাকিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সেটির সুফল পাচ্ছে এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথম ম্যাচের জয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ দল স্পিন নির্ভর হলেও প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের সেরা বোলার ছিলেন পেসার সাইফুদ্দিন। ভিয়ান মুল্ডারকে বোল্ড করেছিলেন দারুণ এক ইনকাটারে। পরে বোল্ড করেছেন টনি ডি জর্সিকে; ইয়র্কার ব্লক করেও লাভ হয়নি, বল গড়িয়ে লাগে স্টাম্পে। পরে স্লগ ওভারে ফিরে আরেকটি ফুল লেংথ বলে ফিরিয়েছেন লুক ফিল্যান্ডারকে। সেদিন ৩০ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
উইকেট তিনটি ছাড়াও সাইফুদ্দিন আলাদা করে নজর কেড়েছেন প্রায় নিখুঁত ইয়র্কারে। নতুন বল বা পুরোনো, যে কোনো সময় ইচ্ছে মতো ইয়র্ক করতে পারেন সাইফুদ্দিন! শনিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে সংবাদ মাধ্যমের মুথোমুখি হয়ে সাইফুদ্দিন শোনালেন তার ইয়র্কার রপ্ত করার গল্প।
বাংলাদেশের আর দশটা কিশোরের মতোই একসময় চুটিয়ে টেপ টেনিস খেলতেন সাইফুদ্দিন। বেশির ভাগ সময়ই তার দায়িত্ব ছিল শেষের দিকে বোলিং করা। টেপ টেনিসে তো আর সুইংয়ের কারিকুরির সুযোগ নেই। সাইফুদ্দিন চাইতেন শুধু ইয়র্ক করতে।
ইয়র্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেংথ। একটু আগে-পিছে হলেই হয়ে যাবে হাফ ভলি কিংবা ফুলটস। ফেনীর ছেলে সাইফুদ্দিন জানালেন, টেপ টেনিস খেলেই কঠিন ইয়র্ক লেংথ তার জন্য হয়ে উঠেছে সহজ।
“ছোটবেলা থেকে পাড়ায় অনেক ক্রিকেট খেলতাম। ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষীপুর, নোয়াখালি, সব জায়গায় খেলে বেড়াতাম। আমার দায়িত্ব থাকত ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে বল করা। তখন থেকেই ইয়র্কার করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছ। টেপ টেনিসে আমার ইয়র্কারের অ্যাকুরেসিটাই ক্রিকেট বলে এসেছে।”
যথেচ্ছা ইয়র্ক করতে পারার সেই সহজাত ক্ষমতা দেখে বাংলাদেশ যুব দলের কোচিং স্টাফরাও আলাদা করে কাজ করেছেন সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার নিয়ে। আলাদা অনুশীলনে আরও শানিত হয়েছে তার এই অস্ত্র।
“অনুশীলনে স্পট বোলিংয়ের পাশাপাশি ইয়র্কারও অনেক ট্রাই করি। আমার জন্য আলাদা একটা নিয়ম আছে। প্রথমে ১৮-২০টি লেংথ বল করি। তারপর স্লগ ওভারের বোলিং অনুশীলনের জন্য কোচ আলাদা সময় রাখেন আমার জন্য।”
ইয়র্কারের জন্য লেংথের পাশাপাশি গতিটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাইফুদ্দিন খুব গতিময় নন, টেনেটুনে বলা যায় মিডিয়াম পেসার। গতি বাড়ানোর ভাবনাও আপাতত নেই তার। নিখুঁত লেংথ দিয়েই ঢেকে দিতে চান গতির ঘাটতি।
“লেংথ ঠিক থাকলে সব গতির বলই খেলা কঠিন। গতি নিয়ে আমি ভাবি না। আমার চাওয়া থাকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং।”বোলিংয়ের পাশাপাশি সাইফুদ্দিনের ব্যাটিংও বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় শট খেলতে পারেন, রান করতে পারেন দ্রুত। প্রথম ম্যাচে যদিও ঝড় তুলতে পারেননি, ১৬ বলে করেছিলেন অপরাজিত ১৭। সামনে আরও ভালো করতে চান ব্যাটিংয়ে। “আমি নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডারই ভাবি। এখানে টিম কম্বিনেশনের কারণে ৭-৮ নম্বরে ব্যাট করছি, কিন্তু খেলতে পারি ওপরেও। চেষ্টা করব ব্যাটে-বলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।”



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :