বিকাল ৪:৪২, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা যুবাদের
চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা যুবাদের
জানুয়ারি ২৭, ২০১৬

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই দলটিকেই ৪৩ রানে হারিয়ে যুবাদের বিশ্বকাপে অসাধারণ সূচনা করলো বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব-১৯ দল। শুধু স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়েই যে জিতলো বাংলাদেশ, এমন নয়। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয় তুলে নিল মেহেদী হাসান মিরাজরা। সে সঙ্গে এই বিশ্বকাপে যে বাংলাদেশের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তারও শুভ সূচনা করে ফেলল, যুবারা।
বাংলাদেশের করা ৭ উইকেটে ২৪০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৭ রানেই অল আউট দক্ষিণ আফ্রিকার যুবারা। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে উড়ে গেল প্রোটিয়ারা। দু’জনই নিলেন ৩টি করে উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাঈদ সরকার এবং সালেহ আহমেদ শাওন।
bangladese-1
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৪০ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে।
এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ। দুজন মিলে ৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৩ রান জমা করেন। তবে দশম ওভারে প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুল্ডারের অফ সাইডের বাইরের একটি শর্ট বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে কাইল ভেরেনেকে ক্যাচ দেন সাইফ (৬)। ফলে ভেঙে যায় ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এরপর জয়রাজকে সাথে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন পিনাক ঘোষ। তবে ব্যক্তিগত ৪৩ রান করে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর শান্তকে সাথে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়রাজ। তবে ২৪ ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে হোয়াইটহেডের বলে ভেরিনেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন জয়রাজ।
এরপর চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হাসান শান্ত ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ভালো একটি জুটি গড়ে তোলেন। দলের স্কোরও দেড়শ পেরিয়ে যায়। কিন্তু মিরাজের বিদায়ে ভেঙে যায় ৫৯ রানের এ জুটি। প্রোটিয়া অধিনায়ক ডি জর্জির বলে লুডিককে ক্যাচ দেওয়ার আগে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান।
মিরাজের বিদায়ের পর দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শান্ত। এরপর জাকিরকে সাথে নিয়ে ৪৫ জুটি গড়ার মধ্য দিয়ে নিজের অর্ধশত তুলে নেন। অবশেষে ৭৩ রান করে মুলডারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার এই ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে জাকির ১৯ আর সাইফউদ্দিন ১৭ রান করলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪০ রান। প্রোটিয়াদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন মুলডার।
২৪১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। টাইগারদের হয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন দলপতি অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ওভার মেডেন নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দেন প্রোটিয়া ওপেনার কাইল ভেরায়নিকে। স্লিপে দাঁড়ানো সাইফ হাসানের তালুবন্দি হয়ে পেরেন এক রান করা এই ওপেনার।
ইনিংসের নবম ওভারে মুলডারকে (৮) বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন সাইফুদ্দিন। এরপর সাইফুদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রোটিয়া দলপতি টনি ডি জর্জি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক করেন ৮ রান।
মেহেদি হাসান মিরাজের পর সাইফুদ্দিনের আঘাতে প্রোটিয়ারা তিন উইকেট হারায়। ইনিংসের ২১তম ওভারে সাইদ সরকার প্রোটিয়াদের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন। সাইদের বলে রিভালদো মনস্যামি ব্যক্তিগত ৫ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ডায়ান গালিয়েমকে (২২) বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন সাইদ সরকার।
২৫ ওভারের পর থেকে ৩৭ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি দ. আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার লিয়াম স্মিথ ক্রিজের একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকেন। ডায়ান গালিয়েমকে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন স্মিথ।
ইনিংসের ৪২তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান ১৭ রান করা ফারহানকে। ৪৫তম ওভারে প্রোটিয়াদের সফল ব্যাটসম্যান ওপেনার লিয়াম স্মিথকে ফিরিয়ে দেন সালেহ আহমেদ শাওন। ১৪৬ বলে ১০০ রান করে মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দি হন স্মিথ। ক্যারিয়ারে প্রথম শতকের দেখা পাওয়া স্মিথ ৯টি চারের সাথে একটি ছক্কাও হাঁকান। একই ওভারে লুডিককেও ফিরিয়ে দেন শাওন।
৪৮তম ওভারে সাইফুদ্দিন এলবির ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন ৬ রান করা ফিল্যান্ডারকে। পরের ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান শেন উইটহেটকে। ৮ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় দ. আফ্রিকা।
টাইগার যুবাদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন সাইফুদ্দিন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি করে উইকেট দখল করেন সালেহ আহমেদ শাওন ও সাইদ সরকার।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টাইগার যুবারা শুরু করে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, পিনাক ঘোষ, জয়রাজ শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, জাকির হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাঈদ সরকার, সঞ্জিত সাহা, আব্দুল হালিম, সালেহ আহমেদ শাওন।
দ. আফ্রিকা একাদশ: লিয়াম স্মিথ, কাইল ভেরায়নি, উইয়ান মুলডার, টনি ডি জর্জি, রিভালদো মনস্যামি, ডায়ান গালিয়েম, ফারহান সায়ানভালা, উইলিম লুডিক, লুক ফিল্যান্ডার, শেন উইটহেট, লুথো সিপামলা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :