রাত ১২:৫১, রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / কক্সবাজারের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে বঞ্চিত দর্শক
কক্সবাজারের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে বঞ্চিত দর্শক
জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারবেন কেবল আমন্ত্রিত অতিথিরা। নিরাপত্তাজনিত নানা সীমাবদ্ধতায় নয়নাভিরাম শেখ কামাল ক্রিকেট কমপ্লেক্সে খেলা দেখার সুযোগ থাকছে না সাধারণ দর্শকের জন্য।
স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ঢুকতেই পথের দুই পাশে দুটি পুকুর; সারি সারি নারিকেল গাছের চারাসহ লাগানো হয়েছে আরও অনেক গাছ। মাঠের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে এক চিলতে গ্যালারি, সুদৃশ্য যে কংক্রিট স্থাপনায় ঠাঁই পেয়েছে প্রেসিডেন্ট বক্স, প্রেসবক্স, কমেন্ট্রিবক্সসহ প্রয়োজনীয় কিছু কক্ষ। গ্যালারির সামনে আর চারপাশে শুধুই সবুজ, সবুজের সমারোহ।
মাঠ থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বঙ্গোপসাগর। কান পাতলেই শোনা যায় গর্জন। সৈকত আর মাঠের মাঝে ঝাউবন। সাগরের তীব্র বাতাস ঝাউবনে দোলা দিয়ে মাঠ পর্যন্ত আসতে আসতে হয়ে ওঠে আরামদায়ক, মৃদুমন্দ হাওয়া।
বাংলাদেশে ক্রিকেট মাঠ মানেই যেখানে ইট-কাঠ, লোহা-লক্করের খাঁচা, কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স সেখানে প্রকৃতি আর সবুজের ছোঁয়ায় সৌন্দর্যের আধার। সাগরের কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম মাঠ।
২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই শুরু হয়েছিল এই স্টেডিয়াম নির্মানের কাজ। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন এখানে সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এখানে ক্রিকেট হয়ে আসছে নিয়মিতই। ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ-সুবিধা এখনও নেই। তবে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ‘এ’ দল, একাডেমি দলের সিরিজ, ঘরোয়া ক্রিকেট হয়ে আসছে নিয়মিতই। এবার ছোটদের বিশ্বকাপ দিয়ে এই স্টেডিয়াম এগোচ্ছে আরেক ধাপ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশে শেষ দুই ম্যাচ, প্লেট পর্বসহ মোট ৯টি ম্যাচ হবে এখানে।
06
মূল স্টেডিয়াম, পাশেই একাডেমি মাঠ ও আরেকটি অনুশীলন ভেন্যু, এই সব মিলিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স। মূল মাঠে ৭টি সেন্টার উইকেট; একাডেমি মাঠে ৫টি সেন্টার উইকেটের পাশাপাশি আছে ১২টি অনুশীলন উইকেট। পাশের অনুশীলন মাঠে উইকেট আরও এক ডজন। সব মিলিয়ে এই কমপ্লেক্সে আছে ৩৬টি মানসম্পন্ন উইকেট, বাংলাদেশের আর কোনো ভেন্যুতে নেই এত উইকেট।
নিজ শহরের দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারবেন না কক্সবাজারের সাধারণ দর্শক। যুব বিশ্বকাপের অন্য ভেন্যুগুলোতে টিকিট কেটে খেলা দেখার ব্যবস্থা থাকলেও কক্সবাজারে থাকছে না সেই সুযোগ। মূল কারণ নিরাপত্তা।
পুরো কমপ্লেক্স ইটের দেয়ালে ঘেরা। তবে মূল স্টেডিয়ামের ওই এক চিলতে গ্যালারি ছাড়া আর কোথাও নেই দর্শক বসার ব্যবস্থা। দর্শক ঢুকলে সীমানার চারপাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে হতো তাদের; ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য যেটি হতে পারত বড় হুমকি।
এই টুর্নামেন্টে মূল মাঠের ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস তাই প্রবল দর্শক আগ্রহের কথা স্বীকার করেও তুলে ধরলেন বাস্তবতা।
“ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সব কিছুর আগে। যেহেতু এখানে গ্যালারি নেই, দর্শকের ভীড়ে এখানে প্রবল বিশৃঙ্খলা হতে পারত। প্যান্ডেল টাঙিয়ে দর্শকের জন্য ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু ঝুঁকির কারণেই সেটিতে সায় দেয়নি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। নিরুপায় হয়েই আমরা সাধারণ দর্শকের মাঠে আসার সুযোগ রাখতে পারিনি।
তবে একেবারেই দর্শকশূন্য মাঠে খেলতে হবে না ক্রিকেটাদের। ভেন্যু ম্যানেজার জানালেন, খেলা দেখতে পারবেন শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরা।
“মূল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ১ হাজার ৬০০ জনের মত ধারণক্ষমতা আছে। একাডেমি মাঠে অস্থায়ী গ্যালারি করে দুই-আড়াইশ’ লোকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূলত বিসিবির আমন্ত্রিত অতিথিরা এখানে খেলা দেখবেন। আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে তাদেরকে, আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে তবেই মাঠে ঢুকতে হবে।”
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। শুধু মাঠ নয়, টিম হোটেলসহ পুরো শহরেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে ব্যাট-বলের মধুর ঠুকঠাক শোনার সৌভাগ্য যুব বিশ্বকাপের সময় পাচ্ছেন না সৈকত শহরের দর্শকদের। নিজেদের শহরেই একটা বিশ্বকাপ হচ্ছে, এই রোমাঞ্চই কেবল সান্ত্বনা!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :