রাত ১১:০১, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ টেবিল টেনিস / হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস খেলেন মানুষটি!
হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস খেলেন মানুষটি!
ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই—বহুবার প্রমাণ হয়েছে। বহু অসাধ্য সাধন হয়েছে যুগে যুগে। ক্রীড়াক্ষেত্রেও এমন অলৌকিক বিষয়ের দেখা মেলে, যা দেখে কেবল চোখ কপালেই ওঠে না, এই প্রশ্ন জাগে—কী করে সম্ভব? পরমুহূর্তেই ওই আপ্তবাক্যটিই বুদবুদ দিয়ে ওঠে মনে—আসলেই মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই! কথাটি আবার প্রমাণ করলেন মিসরের ইব্রাহিম হামাদতু।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ট্রেন দুর্ঘটনায় হাত দুটো হারান। একজন মানুষের যদি দুটো হাত ‘নেই’ হয়ে যায় শরীর থেকে, তখন জীবনে আশা-স্বপ্ন বলতে আর কী-ইবা থাকে? কিন্তু ইব্রাহিম সেই ধাঁচের, যারা মচকায় ভাঙে না! সত্যি ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং জীবনটাকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে সেই ইব্রাহিম কিনা এখন টেবিল টেনিসে সিদ্ধহস্ত!

কীভাবে সম্ভব? টেবিল টেনিস তো সম্পূর্ণ হাতের খেলা। ইব্রাহিমের তো হাত নেই! তো কী হয়েছে? এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাজে লাগিয়ে। তিনি সার্ভ করেন পা দিয়ে বল তুলে আর ভলি করেন মুখ দিয়ে। তবে এটি করতে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুর দিকে বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলেছিলেন। সেই চেষ্টা ব্যর্থ। ইব্রাহিম বললেন, ‘১০ বছর বয়সে দুর্ঘটনার শিকার হই।
তবে টেবিল টেনিস খুব ভালোবাসতাম। দুর্ঘটনার তিন বছর পর আবারও টেবিল টেনিস খেলার চেষ্টা করি। তখন বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলতাম। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তখন ভিন্ন পথ খুঁজতে গিয়ে মুখ দিয়ে খেলার উপায় খুঁজে পাই।’

এরই মধ্যে আফ্রিকান প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় হয়েছেন। খেলেছেন জাপানের এক নম্বর টিটি খেলোয়াড় জুন মিজুতানি (জাপান), সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চীনের ওয়াং হাওসহ বিখ্যাত অনেক টিটি খেলোয়াড়ের বিপক্ষে। যে মানুষটি জীবনযুদ্ধে লড়াই করে এত দূর এসেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হলেন কি দ্বিতীয়—তার প্রয়োজন আছে? ওয়েবসাইট।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :