রাত ২:২৮, শুক্রবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ টেবিল টেনিস / ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস
ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস
ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

গিনেস বুক রেকর্ডধারী বাংলাদেশের টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু এখন নাট্যকার। সৈয়দ কামরুল হুদা, এনায়েত হোসেন মারুফরা ব্যবসায়ী। ক্যাপ্টেন মাসুদ, সাইদুল হক সাদীরা বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত। খুলনা বিকেএসপির কোচ মোস্তফা বিল্লাহ। নাসিমুল হাসান কচি, মোসাদ্দেকুল হক রচি, বখতিয়ার মাহমুদ সোহেল, নোমান সুফিয়ান, আবেদ হোসেন ফারুক- সবাই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু একজায়গায় সবাই এক। সবাই টেবিল টেনিসের সাবেক তারকা খেলোয়াড়। যাদের রক্তে টিটি। তাই তো নিজেদের পেশা সামলানোর পাশাপাশি টিটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তারা। ‘ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এই সাবেকরা। আজ বিশ্ব টেবিল টেনিস দিবস। এ দিবসেই নিজেদের প্রকল্পকে ক্রীড়াপাগল মানুষের সামনে আনতে চাইছেন তারা

টেবিল টেনিসেরই আরেক নাম পিংপং। ‘টেবিল টেনিস সবার জন্য, সর্বত্র’- এ স্লোগানকে ধারণ করে ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন (আইটিটিএফ)। দীর্ঘ ৯০ বছর পর এবারই প্রথম ৬ এপ্রিলকে বিশ্ব টিটি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে এই সংস্থা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতিদিনই টেবিল টেনিসের’। আইটিটিএফের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের প্রায় ২২০টি দেশ পালন করবে এ দিবস। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস ও রাগবির পরই বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা টেবিল টেনিস। পিংপং খেলাকে ঘিরে ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দলকে তাদের দেশে টিটি খেলার আমন্ত্রণ জানায় চীন। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে।

চীনের মতো না হলেও বাংলাদেশেও অনেকটা জনপ্রিয় টেবিল টেনিস। জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার টিটি টেবিল বিক্রি হয়। কিন্তু হতাশার খবর হল, এই সময়ে ১০ জন ভালোমানের খেলোয়াড়ও তৈরি হয় না। মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির জন্যই একটি প্যাকেজ হাতে নিয়েছেন দেশের সাবেক তারকা টিটি খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে সাইদুল হক সাদী বলেন, ‘আমাদের প্যাকেজে রয়েছে উন্নতমানের একটি টেবিল, চারটি উন্নতমানের ব্যাট, ৬০ পিস বল, নেট স্ট্যান্ড ও টেকনিশিয়ান। ছোট জায়গায় টিটি খেলা যায়। বাড়ির কার পার্কিং, ডাইনিং স্পেস, ড্রয়িং রুম, কমিউনিটি রুম এবং পাড়ার ক্লাবও হতে পারে টিটি খেলার আদর্শ স্থান। এই প্যাকেজের আওতায় আগ্রহীদের আমরা ১৫ দিনের জন্য একজন কোচও দেব। খেলার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি পৌঁছে দেয়া হবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে। আমরা মূলত ৬ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের খেলা শেখাতে আগ্রহী। মহিলাদের জন্য থাকবেন মহিলা কোচ।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে টিটি খেলাটা যাতে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, ছোট ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটের পাশাপাশি যাতে টিটি খেলার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে- সে কারণেই আমাদের এমন উদ্যোগ।’ বিশ্ব টিটি দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন কোনো উদ্যোগ না নিলেও সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :